বিশ্ববাজারে রুপার দাম গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষ দিনে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোমেক্স এক্সচেঞ্জে ‘কুলিং সিস্টেম বিকল’ হওয়ায় দীর্ঘ সময় লেনদেন বন্ধ ছিল। এ কারণে বাজারে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে। খবর মাইনিং ডটকম।
স্পট মার্কেটে শুক্রবার রুপার দাম ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৫ ডলার ৬৬ সেন্টে পৌঁছেছে। এ সময় ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতেও ধাতবপণ্যটির দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিউবার্গার বারম্যানের পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও সিনিয়র ট্রেডার ক্রিস্টোফার ক্রেমার বলেন, ‘কোমেক্সে লেনদেন বন্ধ থাকায় বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে শিল্প ধাতু ও পণ্যভিত্তিক ফিউচার মার্কেট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সিটি ইনডেস্ক ও ফরেক্স ডটকমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, ‘কোমেক্সে কার্যক্রম স্বাভাবিক না থাকলে স্পট মার্কেটে তারল্য সংকট তৈরি হয়। এতে মূল্য ব্যবধান সাধারণত বেড়ে যায়।’
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে রুপার দাম বেড়েছে ৭২ শতাংশ। এটি ২০১০ সালের পর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধির পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (এলএমই) গত মাসে সরবরাহ সংকট উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া সাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে রুপার মজুদ ২০১৫ সালের পর সর্বনিম্নে নেমে গেছে।
এদিকে ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের তালিকায় রুপা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। ফলে ধাতুটির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি বছর রুপার গড় মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করেছে আর্থিক পরিষেবা ও বিনিয়োগ ব্যাংক এইচএসবিসি। ব্যাংকটির বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার গড় দাম দাঁড়াতে পারে আউন্সপ্রতি ৩৮ ডলার ৫৬ সেন্ট, এর আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৩৫ ডলার ১৪ সেন্ট।
এইচএসবিসি আরো জানায়, আগামী বছর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম পৌঁছতে পারে ৪৪ ডলার ৫০ সেন্ট, যা এর আগে দেয়া পূর্বাভাসে ছিল ৩৩ ডলার ৯৬ সেন্ট। এছাড়া এর আগে ২০২৭ সালে আউন্সপ্রতি রুপার দাম ৩১ ডলার ৭৯ সেন্টের পূর্বাভাস দিলেও বর্তমানে তা সংশোধন করে ৪০ ডলার নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি।